সমাজের প্রান্তিক, অসহায় ও একসময় ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমী পুনর্বাসন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায়। এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে বকনা গরু বিতরণ করা হয়, যা তাদের জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে এবং সম্মানজনকভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে।
এই মানবিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন গাজীপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাময়িক সহায়তার পরিবর্তে আয়বর্ধক সম্পদ প্রদান করলে একজন মানুষ নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হন।
তিনি আরও বলেন, বকনা গরু একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। যথাযথ পরিচর্যা ও লালন-পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ভবিষ্যতে দুধ উৎপাদন, বাছুর বিক্রি এবং গবাদিপশু পালনকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে এসে আত্মমর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন মারুফ। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বকনা গরু তুলে দেওয়া হয়। এ সময় গবাদিপশু পালনের বিভিন্ন দিক, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমে সফল হওয়ার বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
উপকারভোগীরা জানান, এতদিন জীবিকার অভাবে ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এই সহায়তা তাদের নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, গরু পালন করে নিজেরাই আয় করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাবলম্বী জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র আর্থিক অনুদান নয়, কর্মসংস্থানভিত্তিক পুনর্বাসনই দারিদ্র্য দূরীকরণে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ। বকনা গরু বিতরণের মতো এ ধরনের প্রকল্প একদিকে যেমন অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ভিক্ষাবৃত্তি হ্রাস করে একটি উৎপাদনশীল ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত ও বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন করা হলে সমাজের আরও অনেক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন।
