ঢাকাSunday, 20 September 2026 - 07:34 PM
  1. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কৃষি ও পরিবেশ
  9. খেলাধুলা
  10. চট্টগ্রাম প্রতিদিন
  11. জবস
  12. জাতীয়
  13. জেলা সংবাদ / বিভাগীয় সংবাদ
  14. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  15. তথ্য প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লং মার্চের নামে আওয়ামীলীগকে মাঠে নামানোর সুযোগ দিলে ভালো হবে না: রাশেদ খান

নোটিশ বাংলা
September 18, 2026 7:21 pm
Link Copied!

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া কখনোই শুভ ফল বয়ে আনবে না। জামায়াতে ইসলামী সহ অন্যান্য বিরোধী দলকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূলে বাধা সৃষ্টি করছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন অফিসার-ইন-চার্জের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ এতটাই দুর্বল যে, ডিসেম্বরে নয়, শেখ হাসিনা যদি এর আগেও ফিরে আসেন, তাহলে এই পুলিশ কিছু করতে পারবে না। এর মানে হলো, ১৬ বছরের মধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থার পুরোপুরি অবসান অন্তবর্তীকালীন সরকার করতে পারেনি। এ কারণে বিএনপি সরকারের পক্ষে দেখা যাচ্ছে যে, রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো জামায়াত।

জামায়াত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে একটি সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি বলছি না তারা আওয়ামী লীগের সেই ফ্যাসিবাদকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামছে। বরং আমরা যতটুকু তথ্য পাচ্ছি, জামায়াত যেহেতু রাজনৈতিকভাবে একটি হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত, সেই সুযোগ নিতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ।” রাশেদ খান আরও জানান, এই সরকারের বয়স সাত মাস। গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, জামায়াত আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করছে। এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে লং মার্চ করা যায় না। জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে, অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান। এই কারণে জনগণের মনে এক ধরনের সন্দেহ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ঠিক একইভাবে। এখন তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি পরিকল্পনার ছক তৈরি করছে কিনা?

এ সময় নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খান বলেন, ১১ দলীয় জোটের এক নেতার নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে করে লং মার্চে অংশ নিচ্ছেন। লং মার্চের সমাবেশে খিলখিল করে হাসছেন এবং উস্কানি দিচ্ছেন। জামায়াতকে তিনি বলেন, “এমন উস্কানি লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ নিয়ে রংপুরে আসবেন, এমন প্রত্যাশা করি না।”

লং মার্চ সম্পর্কে রাশেদ খান মন্তব্য করেন, জামায়াতের ৭টি দাবির জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে লং মার্চ করার প্রয়োজন নেই। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পুরো একদিন ঢাকা-চট্টগ্রামের রাস্তা বন্ধ রাখার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রংপুরেও একই অবস্থা হবে। এভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে জনগণের উপকার করতে চান। হরতাল না দিলেও লং মার্চে রাস্তাঘাট বন্ধ করা সরকারের দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা, জ্বালানির অপচয় করা এবং আওয়ামী লীগকে উস্কে দিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ অন্যান্যরা। এর আগে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান। এ সময় তার সঙ্গে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে রাশেদ খান বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ দুই খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। এর প্রভাব সরকারি হাসপাতালগুলোতেও পড়েছে, যেখানে আগের তুলনায় রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় অনেক মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।