ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ও কৌশল নির্ধারণে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে জরুরি বৈঠক করেছেন বিরোধী দলগুলোর নেতারা।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংগঠনটি জানিয়েছে, পুলিশি সহিংসতার শিকার মানুষদের প্রতি সংহতি জানাতে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
সিজেপি জানিয়েছে, বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে ছাত্র সংগঠন ও অন্যান্য সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, জ্বর ও শরীরের তীব্র ব্যথার কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য দিল্লির জন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে দূরে থাকবেন তিনি। কয়েক দিন ধরে অসুস্থতা নিয়েও আন্দোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকার চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।
জিতেন্দ্র সিং আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা চাইলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে আলোচনায় বসতে পারেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এখনো সরকারের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া হয়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে মোদির এই ঘোষণার পরও সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সরকারের নীতির কারণে হয়েছে। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে দিল্লির জন্তর মন্তরে সিজেপির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে সংসদেও সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। সরকার আলোচনার কথা বললেও বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান ধরে রেখেছে।
