ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) জেলে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আগামী ৩ এপ্রিল তাকে পুনরায় আদালতে তোলা হবে।
শনিবার (২১ মার্চ) ফিলিপকে কলকাতার বিধাননগর আদালতে হাজির করার আগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় বিধাননগর হাসপাতালে। এরপর তাকে কলকাতার ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার লকআপে রাখা হয়। সেখান থেকে পরে তাকে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তবে এদিন তাকে সরাসরি বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
ফিলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ভারতে পালাতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে তাদের ভারতে প্রবেশে সহায়তা করেন ফিলিপ এবং মেঘালয়ে পৌঁছে দেন।
গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে উত্তর ২৪ পরগনার কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর থেকে তাকে নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় এসটিএফ।
এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ। ৮ মার্চ তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জানা গেছে, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে আবার বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। পরে ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ভারতে অবস্থানের তথ্য সামনে আসে।

