পবিত্র নগরী মক্কা থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিনা প্রান্তর। ৮ জিলহজ জোহর থেকে আরাফাতের দিন ফজর পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করেন হাজিরা। মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। এখানে হজ পালনকারীরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন।
মিনা প্রান্তরে অবস্থিত প্রায় লক্ষাধিক তাঁবুতে অবস্থান করেন হাজিরা। এখানে নামাজ, তাসবিহ-তাহলিলের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন তারা। তাঁবুতে তাঁবুতে চলে আজান-ইকামত ও নামাজ
মিনাতে অবস্থানের পর ৯ ও ১০ জিলহজ আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফায় অবস্থানের পর ১০ জিলহজ সূর্য ওঠার আগেই আবার মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন হাজিরা।
মিনায় গিয়ে দুপুরের আগেই জামরাতে আকাবায় অর্থাৎ বড় জামরায় ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজেও মিনায় অবস্থিত জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করেন হাজিরা।
মিনা প্রান্তরে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা হাজিদের জন্য ওয়াজিব। এই কাজটি যথাযথভাবে আদায় করতে না পারলে বা কোনো কারণে ছুটে গেলে হজ পালনকারীকে কাফ্ফারা হিসেবে কোরবানি দিতে হবে।
যেহেতু হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য হাজিদের জন্য মিনার তাঁবুতে অবস্থান করতে হয়, তাই চলতি বছরের হজের প্রস্তুতি হিসেবে মিনা প্রান্তরে তাঁবু তৈরি ও সংস্কারের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ হাজির আবাসনের জন্য এই অস্থায়ী শহর গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হজ পালনের নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে এখন চলছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু স্থাপন, হাঁটার পথ সংস্কার এবং পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কাজ। হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় পুরো এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প, জরুরি সহায়তা কেন্দ্র এবং পানি পানের সুব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের হজে ভিড় সামলাতে এবং হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে পরিবহন রুট এবং বিশ্রাম নেওয়ার জায়গাগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে।
সবগুলো তাঁবু ও স্থাপনার মান এবং নিরাপত্তা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাজিদের সেবা প্রদানের জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে, যাতে তারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে হাজিদের সেবা করতে পারেন।
হাজি মিনায় চৌচালা ঘরের মতো তাঁবুতে থাকেন। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এসব তাঁবুতে আছে বাতি, বাথরুম। কিছু দূর পর পর আছে খাবারের দোকান। এই দোকানগুলো বছরে পাঁচ দিনের জন্য খোলা থাকে।
হজের এই পাঁচ দিন ছাড়া মিনার পুরো এলাকা খালি পড়ে থাকে। চারপাশের প্রবেশদ্বারও তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন, টেলিফোন সংযোগ। হজের দুই দিন আগে মিনা এলাকার ফটক খোলা হয়। হজের দুই দিন পর আবার সব বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মিনার কাছেই সৌদি বাদশাহর বাড়ি, রাজকীয় অতিথি ভবন, হজের মোয়াচ্ছাসা (হজের সার্বিক বিষয় দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ) কার্যালয় ও রেলস্টেশন।

