এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যেখানে একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে এর বৈধতা, স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে। গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল নেতৃত্বাধীন বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ দাবি করে আসছেন ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব সংগঠকরা। এরই মধ্যে দুই পরিচালক পদত্যাগ করায় পরিস্থিতি আরও আলোচিত হয়ে উঠেছে, যা বোর্ডের ভেতরের স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদকে বারবারই মুখোমুখি হতে হচ্ছে বোর্ডের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নের। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ম্যাচ শেষে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করেন।
ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমি দুইটা পদত্যাগপত্র দেখেছি। (তারা) একান্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছে। যদি ব্যক্তিগত কারণ মনে করেন, আমি যদি কালকে না থাকি তখন আমারও কোনো ব্যক্তিগত কারণ হতে পারে। তাই না? এটাতে আমি আসলে বোর্ডের জন্য খুব বেশি। আপনি জানেন আমাদের ২৫ জন ডিরেক্টর। তারা থাকলে ভালো হতো। কিংবা না থাকলে আমার মনে হয় না যে বোর্ড চলবে না। আমার মনে হয় বোর্ডের মতো চলবে বোর্ড।’
তার এই বক্তব্যে বোর্ডের ভেতরের সংকটকে ছোট করে দেখানোর একটি প্রবণতা যেমন আছে, তেমনি এটিও স্পষ্ট যে নেতৃত্ব এখনো প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার বার্তা দিতে চাইছে।
অন্যদিকে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই তদন্ত শুরু করলেও এর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমনকি বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল-কেও জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মাত্রাও যুক্ত করেছে এই বিতর্কে।
এ প্রসঙ্গে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে– একটা হলো সংক্ষুব্ধ পার্টি। আরেকটা হলো ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছেন তারা। এটা থেকে কী ফলাফল পাওয়া যাবে, তা আমার জানা নেই। কেননা যারা আছেন তারা বলবেন সব ঠিক আছে। আর যারা নাই, তারা বলবেন সব ভুল হয়েছে।’
তার এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তদন্ত প্রক্রিয়াটিকে তিনি একধরনের পূর্বনির্ধারিত অবস্থানের সংঘর্ষ হিসেবেই দেখছেন, যেখানে নিরপেক্ষ সমাধান পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এমন অস্থিরতার মধ্যেই সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ-সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা-এর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা। মাঠের সফল নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে প্রশাসনে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ফারুক আহমেদ, যদিও এ ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘সবাই জানে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে সে কী করেছে। তার নেতৃত্বে দলের শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং পারফরম্যান্স অনেক উন্নত হয়েছিল। যদি অন্য কোনো সমস্যা না থাকে এবং সে যদি আগ্রহী হয়, তাহলে অবশ্যই মাশরাফি ক্রিকেট বোর্ডে আসতে পারে।’
এই বক্তব্যে একদিকে যেমন মাশরাফির প্রতি আস্থার প্রতিফলন দেখা যায়, অন্যদিকে বোর্ডের বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্ব বা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যুক্ত করার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

