ঢাকাTuesday, 21 July 2026 - 08:09 PM
  1. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কৃষি ও পরিবেশ
  9. খেলাধুলা
  10. চট্টগ্রাম প্রতিদিন
  11. জবস
  12. জাতীয়
  13. জেলা সংবাদ / বিভাগীয় সংবাদ
  14. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  15. তথ্য প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুঃসময়ের আন্দোলনের সঙ্গীদের মান ভাঙাতে উদ্যোগ বিএনপির

Link Copied!

অবশেষে বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী দুঃসময়ের আন্দোলন সঙ্গীদের অভিমান ভাঙাতে উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সেই লক্ষে আগামীকাল সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিগত যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামের শরিকদের সঙ্গে বসছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যায় বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে যুগপৎ আন্দোলন শরিকদের দুয়েকজন নেতা প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ ক্ষমতার ভাগ পান। কিন্তু বেশিরভাগ শরিক দল বা জোটের নেতারা কার্যত ছিটকে পড়েন জাতীয় সংসদ বা ক্ষমতা থেকে। সেই থেকে ধীরে ধীরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে প্রকাশ পেতে শুরু করে নানা সংকট। অভিমান বাড়তে থাকে জোট শরিক দলের নেতাদের মধ্যে। পাশাপাশি জোট প্রধানের বিরুদ্ধে অন্য দলগুলোর নানা ধরনের অভিযোগের কথাও শোনা যায়। আর এর নেতিবাচক প্রভাব আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়তে পারে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করছেন। সেই সংকট কাটাতে অবশেষে জোট প্রধান বিএনপির চেয়ারম্যান শরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসতে যাচ্ছেন। 

জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে যেসব দল বিএনপির শরিক ছিল, তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের সময় এবং সরকার গঠনের পর যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ এসব দলের নেতাদের। এমন পরিস্থিতিতে শরিকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় সোমবার সন্ধ্যায় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শরিকদের অভিমত, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির হাইকমান্ড প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে সরকার।’ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সকলের অংশগ্রহণে জাতীয় সরকারের আদলে সরকার গঠন করার ঘোষণাও ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। বিএনপির এমন স্লোগান সামনে রেখে শরিক দলের অনেকে এখন চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ হতাশ হয়ে জোট রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ নিজেদের মতো করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

কয়েকটি শরিক দলের নেতা জানান, যুগপৎ আন্দোলনে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে রাজপথে থেকে সরকার গঠনের পর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে সরকার পরিচালনায় শরিকদের ভূমিকা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১০টি আসন ছাড়ে বিএনপি। এর মধ্যে নিবন্ধিত শরিকদের জন্য আটটি আসন ছাড়া হয়। অনিবন্ধিত দুটি দল ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এ ছাড়া চার নেতা বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকারে সুযোগ পেয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চের গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। সরকারের অংশ এই তিন দল বাদে ১২ দলীয় জোট, হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ অন্যান্য শরিক দলগুলোর মূল্যায়ন না থাকায় জোটের বড় অংশটির মধ্যেই অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।