রাশিয়া ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার ফলে কেন্দ্রের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেখানে বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এবং রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা দুটি পৃথকভাবে বিবৃতিতে জানায়, হামলায় ব্যবহৃত জ্বালানি গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনের অংশের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু হামলার মুহূর্তে সেখানে কোনো ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষিত ছিল না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। হামলার শিকার স্থাপনাটি চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে, ইউক্রেনের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলার ঘটনা রুশ বাহিনীর জন্য নতুন নয়। পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্র রাশিয়ার হুমকি ও চাপ প্রয়োগ পদ্ধতিগত, ইচ্ছাকৃত এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেরনোবিলের ক্ষতিগ্রস্ত চুল্লির ওপর নির্মিত সুরক্ষা কাঠামোতে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হেনেছিল, ঘটনার জন্য পূর্বে ইউক্রেন অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
১৯৮৬ সালে চেরনোবিলেই বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেই অভিযোগকেও মস্কো অস্বীকার করেছিল।
এদিকে, ইউক্রেন ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনে অবস্থিত ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিঝঝিয়া কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ঘিরে যে কোন হামলা বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

