ঢাকাFriday, 23 October 2026 - 07:39 AM
  1. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কৃষি ও পরিবেশ
  9. খেলাধুলা
  10. চট্টগ্রাম প্রতিদিন
  11. জবস
  12. জাতীয়
  13. জেলা সংবাদ / বিভাগীয় সংবাদ
  14. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  15. তথ্য প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

News Room
April 11, 2026 10:02 pm
Link Copied!

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি) বলেছেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও সংস্কার না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে সেচব্যবস্থায় ঘাটতি এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১ দশমিক ৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ কৃষকসহ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, কিছু খাল দখল করে লিজ দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও আবাদ করা হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে এবং কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করছে এবং অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে কৃষকদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।”

জলবায়ু পরিবর্তন ও বন উজাড়ের প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর দুই তীরে বৃক্ষরোপণ করা হবে এবং খালগুলোতে মাছ ও হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও খালের দুধারে সবুজ বনায়ন গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও জানান, খাল খনন কাজে শুধু যন্ত্রনির্ভর না হয়ে নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। একই সঙ্গে তিনি খনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবো।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ,জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদসহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার পান্না আক্তার।