কোনাবাড়ী এলাকায় ‘ফুলকুড়ি’ নামে একটি খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী কারখানায় ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চানাচুর, বুট, বাদাম ও বিভিন্ন সস তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
কারখানাটির মালিক বেলাল হোসেন হলেও সরেজমিনে মালিক অনুপস্থিত থাকায় ঘটনাস্থলে হাজির হন স্থানীয় তানজিম আহমেদ শাকিল।
সংবাদকর্মীরা ভেজাল কারখানার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ওই নেতা সরাসরি বাধা প্রদান করেন। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং হুমকিস্বরূপ বলেন, “কোনাবাড়ী থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে নিয়ে এসে বিবেচনা করে দেখবেন—আপনারা এখানে তথ্য নিতে পারবেন কি না।”
এ সময় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি ভেজাল খাদ্য কারখানাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থের জন্য চরম হুমকি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে। এতে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং না জেনে এসব পণ্য খেয়ে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
কারখানার পাশেই অবস্থিত একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জানান, এখানে বিভিন্ন পণ্য ভাজা ও প্রস্তুতের সময় বের হওয়া ধোঁয়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে মরিচ ভাজার সময় এমন তীব্র ঝাঁঝ ছড়ায় যে কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—একটি ভেজাল ও পরিবেশদূষণকারী কারখানার পক্ষে একজন রাজনৈতিক নেতা কেন সংবাদকর্মীদের বাধা দেবেন? এই বাধার আড়ালে কী লুকাতে চাওয়া হচ্ছে? অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ভেজাল কারখানা ও সংবাদ সংগ্রহে বাধাদানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী