গাজীপুরের কোনাবাড়ি নতুন বাজার এলাকায় আজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে মোটরসাইকেলের নির্ধারিত সাইলেন্সার পাইপ পরিবর্তন করে অবৈধভাবে ‘হলার পাইপ’ লাগানোর অপরাধে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে কোনাবাড়ি থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণির ধনীর দুলাল ও বখাটে যুবক শখের বশবর্তী হয়ে মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পাইপ পরিবর্তন করে অতিরিক্ত উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী হলার পাইপ ব্যবহার করে রাস্তায় চলাচল করছে। এর ফলে জনসাধারণ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উচ্চ শব্দ হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ছোট শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা হঠাৎ উচ্চ শব্দে ভয় পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এতে মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শুধু তাই নয়, এসব বিকট শব্দ জনমনে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হলার পাইপ লাগানো মোটরসাইকেল যেসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করে, সেখানকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। শব্দদূষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং সমাজে কুরুচিপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের উচ্চ শব্দসম্পন্ন যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যদিও আইন অনুযায়ী এমন পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ, তবে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে অনেকেই আইন অমান্য করে চলেছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করেন, জনস্বার্থ রক্ষায় হলার পাইপ লাগানো মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সর্বস্তরের জনগণের দাবি—শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হোক।