পাকিস্তানের দুই সাবেক ক্রিকেটার সাঈদ আজমল ও আব্দুল রাজ্জাক এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, আইসিসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং ভারতকে ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতি মেশানোর সুযোগ দিচ্ছে।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি এই দুই সাবেক তারকা এতোটাই ক্ষুব্ধ যে, তারা প্রশ্ন তুলেছেন–ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্যের ওপর যদি আইসিসি কর্তৃত্বই দেখাতে না পারে, তবে এই বৈশ্বিক সংস্থার প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?
আজমল-রাজ্জাকদের এই সমালোচনার সুত্রপাত বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত মেনে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়াকে কেন্দ্র করে। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত জড়িত।
এই ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে। বিসিবি এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচগুলোর ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দশম আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এদিকে পাকিস্তান আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রীলঙ্কাতেই তাদের সব ম্যাচ খেলবে। গত বছর স্বাক্ষরিত এক চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আইসিসি ইভেন্টে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে সফর করবে না।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাঈদ আজমল আইসিসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। টেলিকমএশিয়াডটনেট’কে এই তারকা বলেন, ‘আইসিসি ভারতের দিকেই ঝুঁকে আছে—এটা সবাই জানে। আইসিসি যদি ন্যায্য সিদ্ধান্ত নিতে না পারে এবং ভারতকে খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানো থেকে থামাতে না পারে, তাহলে তাদের কাজ করাই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’
আজমল ক্ষোভ নিয়ে বলেন, বিশেষ করে যখন অন্য দেশগুলো কোনো সমস্যা ছাড়াই পাকিস্তানে সফর করছে, তখন ভারতেরও পাকিস্তানে এসে খেলতে আপত্তি থাকার কথা নয়।
তার ভাষায়, ‘যদি পুরো বিশ্ব পাকিস্তানে এসে খেলতে পারে, তাহলে ভারতও পাকিস্তানে এসে খেলবে না কেন? গত বছর ভারত পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন নষ্ট করে দিয়েছিল, তাদের ম্যাচ দুবাইয়ে সরিয়ে নিয়ে। সেটাই প্রমাণ করে, কীভাবে রাজনীতি খেলাধুলার সঙ্গে মেশানো হচ্ছে।’
ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন আজমল, ‘ভারতের খেয়ালখুশির ওপর নেওয়া সিদ্ধান্তে গোটা বিশ্বকে জিম্মি করা যায় না।’
এদিকে আজমলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক আইসিসির অন্য সদস্য দেশগুলোর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য আইসিসি সদস্যরা শুধু দেখেই যাচ্ছে ভারত কী করছে। তাদের উচিত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ক্রিকেট বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করা।’
রাজ্জাক বলেন, ক্রিকেটের কাজ দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করা নয়, বরং সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। তার ভাষায়, ‘ক্রিকেট একটি ভদ্রলোকের খেলা এবং শান্তির বার্তা দেয়। আমরা দেখেছি, ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তির অনেক সুযোগ নষ্ট করেছে। পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত না মেলানো খেলাটির নিয়ম ও সংস্কৃতির বিরোধী।’
শেষে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেন রাজ্জাক, ‘ক্রিকেটকে ক্রিকেট হিসেবেই থাকতে দেওয়া উচিত। এটাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা ঠিক নয়—আর সেটাই এখন ভারত করছে।’