সাল ১৯৮১। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ তখন শোকস্তব্ধ জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছিল। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতিতে শেষ বিদায় জানানো হয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে। গার্ড অব অনারের মাধ্যমে তাঁকে সমাহিত করা হয় বিজয় সরণির চন্দ্রিমা উদ্যানে—যা পরবর্তীতে পরিচিতি পায় জিয়া উদ্যান নামে।
সময় গড়িয়েছে ৪৪ বছর। ইতিহাস যেন আবারও সেই একই দৃশ্যপট এঁকে দিল। একই জায়গায়, একই জনস্রোত, একই শোক—এবার বিদায় জানানো হলো তাঁরই সহধর্মিণী, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। লাখো মানুষের উপস্থিতি যেন নিঃশব্দে ঘোষণা করল—এটি কেবল একটি জানাজা নয়, এটি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।
একদিন যিনি ছিলেন সাধারণ গৃহবধূ, স্বামী হারানোর পর কোনো পূর্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই যাঁর কাঁধে এসে পড়ে একটি দলের ভার—সেই বেগম খালেদা জিয়া নিজের প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বগুণে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছে দেন। তিনিই হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আপসহীন নেতৃত্বে তিনি রাজনীতিতে সৃষ্টি করেন এক অনন্য অধ্যায়।
তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে নিয়ে যাঁর জীবন ছিল নিরাভরণ, সেই নারীই সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও যুগান্তকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৮১ সালে যেমন স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ জড়ো হয়েছিল একজন রাষ্ট্রপতির জানাজায়, তেমনি ২০২৫ সালের এই দিনে (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষ জড়ো হয় খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা—একদিকে সোবহানবাগ, অন্যদিকে কারওয়ান বাজার, আরেকদিকে বিজয় সরণী হয়ে শ্যামলী—চারদিকজুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। যতদূর চোখ যায়, শুধুই মানুষের ঢল। নীরব অশ্রু আর শোকের ভারে ভারী হয়ে ওঠে পুরো রাজধানী।
জিয়া থেকে খালেদা জিয়া—এ যেন সময়ের ব্যবধানে একই ইতিহাসের নীরব, গভীর ও হৃদয়বিদারক পুনরাবৃত্তি।