ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে শুটার ফয়সালকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
পুলিশ তার আবেদনে উল্লেখ করেন, আমিনুল ইসলাম রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সালকে সীমান্ত দিয়ে চলে যাওয়ার সহযোগিতা করেছেন মর্মে জানায়। আসামি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার বক্তব্য আদালতে প্রদান করতে ইচ্ছুক। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
গত ২৪ ডিসেম্বর মিরপুর-১১ থেকে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে শরীফ ওসমান হাদি পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় রিক্সাযোগে যাওয়ার সময় মোটর সাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান তিনি।
হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রুপান্তর নেয়।