শীত আসতেই শুষ্ক ও রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে ত্বকের নানা সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চুলকানি, শুষ্কতা, ফাটা ঠোঁট ও পা, খুশকিসহ বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।
ত্বক মানবদেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হওয়ায় ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব এখানে দ্রুত পড়ে। শীতকালে সাধারণত ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে, অকারণে চুলকানি শুরু হয়, ঠোঁট ও পায়ের তালু ফেটে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ সময় স্ক্যাবিস, অ্যালার্জি ও একজিমার মতো কিছু চর্মরোগও তীব্র আকার ধারণ করে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, শীতকালীন চুলকানি বা ‘উইন্টার ইচ’ এক ধরনের ডার্মাটাইটিস, যা শীতের ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসে ত্বকের ওপরের স্তরের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। ঠান্ডা থেকে ঘরে ফিরলে ত্বকে লালচে ভাব, খসখসে অনুভূতি ও চুলকানি দেখা দিলে সেটিকে শীতকালীন চুলকানির লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
যে ভিটামিনের অভাবে চুলকানি
ভিটামিন ডি:
১. শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকায় শরীরে ভিটামিন ডি-এর উৎপাদন কমে যায়।
২. ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের মতো প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে, যা চুলকানি বাড়ায়।
শীতকালীন চুলকানির প্রধান কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শুষে নেয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল, রাসায়নিকযুক্ত সাবান ব্যবহার এবং ঘরে হিটার ব্যবহারের কারণে ত্বকের শুষ্কতা আরও বেড়ে যায়। গরম পানিতে নিয়মিত গোসল ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধ্বংস করে দেয়, যা চুলকানি ও লালচেভাবের কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনি বা থাইরয়েডের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শীতে ত্বকের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
প্রতিরোধে করণীয়
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা শীতকালীন ত্বক সমস্যায় কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, গোসলের সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করা উচিত এবং সাবানের পরিবর্তে সাবানমুক্ত বা মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। গোসলের পরপরই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের শুষ্কতা কমে।
চুলকানি বেশি হলে আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা ভেজা কাপড় বা বরফের প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১ শতাংশ হাইড্রোকর্টিসোন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সুগন্ধযুক্ত বা অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত ক্রিম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলেছেন তারা। উলের বা ফ্ল্যানেলের পোশাকের পরিবর্তে সুতির বা সিল্কের হালকা পোশাক ত্বকের জন্য আরামদায়ক। বাইরে বের হওয়ার সময় গ্লাভস, স্কার্ফ ও টুপি ব্যবহার করলে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে।
এছাড়া শীতকালেও নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ওমেগা-৩, ভিটামিন এ, সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ত্বক সুস্থ রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

