হৃদয় হাসান চৌধুরী,
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরা জেলার সদর থানায় অবস্থিত লাবসা দরগাহ পাড়া গ্রামের উদ্যমে নারী উদ্যোক্তা আমেনা খাতুন এর সাহসিকতায় কুখ্যাত রাসেল গ্যাং নামে পরিচিত একটি চক্রকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
উক্ত রাসেল গ্যাং বহু আগে থেকেই অত্র অত্র এলাকায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে হেনস্থা করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশে অবস্থিত ‘বাহারি পান্থশালা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’ নামের মালিক এক নারী উদ্যোক্তা মোছাঃ আমেনা খাতুন এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিক থেকে রাসেল গ্যাং নামের অবৈধ এক চক্রের আবির্ভাব ঘটে।
তারা প্রথমে ঐ রেস্টুরেন্টের কাস্টমার হিসেবে আসলেও ধীরে ধীরে তাদের চক্রের প্রকাশ পায় এবং তাদের অবৈধ কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক মোছাঃ আমেনা খাতুনকে টার্গেট করে এই গ্যাং। পরে তাকে ধীরে ধীরে অবৈধ ও চোরাকারবারি ব্যবসায় সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তাব দেয়। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় রাসেল গ্যাং আমেনা খাতুন কে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেল ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করেন। এছাড়াও এই রাসেল গ্যাং আমেনা খাতুন এর স্বামী ও সন্তানকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং মেরে ফেলার বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয় এছাড়াও আমেনা খাতুনের হাতের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত স্মার্টফোন টাও হ্যাক করে নেয় এই চক্রটি।
তারপর একই সালের জুলাই মাসের দিকে আমেনা খাতুন তার সাহসিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হন এবং অভিযোগ দায়ের করেন।
তারপর তাদের সহযোগিতায় এবং তত্ত্বাবধানে দেশ এবং বিদেশ পালিয়ে থাকা এই রাসেল গ্যাং এর পুরো চক্রটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়।
অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা মোছাঃ আমেনা খাতুন এর ধৈর্য এবং সাহসিকতায় ইনফরমেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসারদের ভূমিকায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের দিকে এই রাসেল গ্যাং নামের অবৈধ চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ী চক্রটিকে দেশ এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা সকলকে ধরতে সক্ষম হয়।
সর্বশেষ এই ঘটনা তদারকির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসারবৃন্দ উদ্যোক্তা আমেনা খাতুনকে ধন্যবাদ ও উৎসাহ প্রদান করেন।
এখানেই প্রমাণিত হয় যে মোছাঃ আমেনা খাতুন নামের ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা তিনি এক অসীম উদ্যমী,ধৈর্যশীল ও সাহসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

